এশিয়ার চালের বাজার

ভারতে স্থিতিশীল থাকলেও দাম কমেছে থাইল্যান্ডে

চলতি সপ্তাহে এশিয়ার চালের বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

মুদ্রার মান কমায় ভারতীয় চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা কম থাকায় থাইল্যান্ডের চালের দাম অনেকটা কমেছে। ভারতের স্থানীয় বাজারে ধানের দাম বাড়লেও রুপির মান কমায় রফতানি মূল্যে কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় চাল এখন থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের তুলনায় সস্তা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের প্রধান চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে বর্তমানে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল প্রতি টন ৩৪৪-৩৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও একই দামে লেনদেন হয়েছে। কলকাতার ব্যবসায়ীরা জানান, ডলারের বিপরীতে রুপির মান গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। রুপির এ দরপতন ধান উৎপাদনের বাড়তি খরচ সামলাতে সাহায্য করছে। ফলে বিশ্ববাজারের ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় চালের চাহিদা আগের মতোই রয়েছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বাজারে চালের দাম বেশ কমেছে। চলতি সপ্তাহে থাই ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম ৩৯০-৩৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৪১০-৪১৫ ডলার। ব্যাংককের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে থাই চালের বড় কোনো চাহিদা নেই। চীন ও ফিলিপাইন থেকে সামান্য কিছু অর্ডার আসছে। এছাড়া চাষের খরচ বাড়ায় অনেক কৃষক এখন ধান চাষ কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে সরবরাহ কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভিয়েতনামেও চলতি সপ্তাহে চালের দাম স্থিতিশীল ছিল। সেখানে ৫ শতাংশ ভাঙা চাল প্রতি টন ৩৭৫-৩৮০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মে মাস থেকে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কেনা শুরু হবে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ এবং ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও চালের দাম অনেক বেশি। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও